বেকার সমস্যার জন্য বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা কতটা দায়ী? এবং মুক্তির উপায় কী?

বেকার সমস্যার জন্য বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা কি দায়ী? সমস্যার মূল ও সমাধানের পথ** বাংলাদেশ আজ দ্রুত উন্নয়নশীল একটি দেশ। কিন্তু উন্নয়নের সাথে তাল মিলিয়ে তরুণ সমাজের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা—বেকার সমস্যা। প্রতিবছর কয়েক লাখ শিক্ষার্থী ডিগ্রি শেষ করলেও তাদের অনেকে চাকরি পাচ্ছেন না। প্রশ্ন আসে—এ সমস্যা কি শুধুই অর্থনীতি বা চাকরির সংকট? নাকি শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যেই আছে বড় ঘাটতি?
বাংলাদেশের বেকারত্ব ও শিক্ষা ব্যবস্থার সম্পর্ক 

১. তাত্ত্বিক জ্ঞানে বেশি, দক্ষতায় কম বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা বইনির্ভর এবং পরীক্ষাভিত্তিক। ফলে শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক দক্ষতা, প্রযুক্তি জ্ঞান, সমস্যা সমাধান, যোগাযোগ দক্ষতা—এগুলো শিখতে পারে না। চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন দক্ষতাকে বেশি মূল্যায়ন করলেও আমাদের পড়াশোনা সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

 ২. বাজারের চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা নেই বিশ্বে চাকরির ধরণ দ্রুত বদলাচ্ছে—ডিজিটাল মার্কেটিং, AI, সফটওয়্যার, ফ্রিল্যান্সিং, উদ্যোক্তা তৈরি ইত্যাদি ক্ষেত্রে সুযোগ রয়েছে প্রচুর। কিন্তু আমাদের স্কুল-কলেজে এসব দক্ষতা সেভাবে শেখানো হয় না। ফল—ডিগ্রি আছে, কিন্তু বাজারে চাহিদা নেই।

 ৩. কারিগরি শিক্ষা অবহেলিত অনেক দেশে বেকারত্ব কমানোর বড় হাতিয়ার কারিগরি শিক্ষা। বাংলাদেশেও TVET, কারিগরি ইনস্টিটিউট আছে, কিন্তু মান, আধুনিকতা ও শিল্পকারখানার সাথে সংযোগ খুব কম।

 ৪. উদ্যোক্তা তৈরির অনুপ্রেরণা নেই আমাদের শিক্ষা এখনো “চাকরি পাও” মনোভাব তৈরিতে অভ্যস্ত। “চাকরি তৈরি করো” বা উদ্যোক্তা হও—এমন মনোভাব গড়ে ওঠে না। ফলে তরুণরা চাকরির পেছনে ছুটছে, কিন্তু বাজারে নতুন চাকরির উৎস তৈরি হচ্ছে কম। 

 সুবিধাজনক সমাধান: এই শিক্ষা ব্যবস্থার করণীয় কী? 

১. দক্ষতাভিত্তিক পাঠ্যক্রম তৈরি প্রোগ্রামিং গ্রাফিক ডিজাইন ডিজিটাল মার্কেটিং ডেটা অ্যানালিটিক্স অ্যাপ/ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কমিউনিকেশন স্কিল সমালোচনামূলক চিন্তা এগুলো স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পড়াতে হবে।

 ২. কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারায় আনা জেলা-উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক ল্যাব ইন্ডাস্ট্রি ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের যৌথ প্রশিক্ষণ বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগী স্কিল ট্রেনিং এগুলো বেকারত্ব কমাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

 ৩. প্রতিষ্ঠানের সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংযোগ ইউনিভার্সিটি–ইন্ডাস্ট্রি পার্টনারশিপ বাড়লে— শিল্প কারখানার চাহিদা অনুযায়ী পড়াশোনা ইন্টার্নশিপ চাকরির সুযোগ স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হবে।

 ৪. উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ শিক্ষার প্রসার কলেজ-ভার্সিটিতে থাকা উচিত— স্টার্টআপ ক্লাব ইনকিউবেশন সেন্টার ছোট ব্যবসা চালানোর ট্রেনিং শিক্ষার্থী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণ সুবিধা উদ্যোক্তা বাড়লে চাকরির উৎসও বাড়বে। 

 ৫. শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন শুধু বই শেখালে হবে না; শিক্ষক নিজে টেকনোলজি ও আধুনিক স্কিলে দক্ষ না হলে ছাত্ররাও পিছিয়ে পড়বে।

 দেশের উন্নয়নে সঠিক শিক্ষা: সময়ের দাবি বাংলাদেশের তরুণরা অত্যন্ত মেধাবী। সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও দক্ষতা উন্নয়ন হলে চাকরির অভাব থাকবে না। শুধু ডিগ্রি নয়, প্রয়োজন বাস্তব দক্ষতা—যা বাজারে কাজে লাগে, আয় করতে সাহায্য করে, এবং দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। শিক্ষা ব্যবস্থা বদলানোই বেকার সমস্যা কমানোর মূল পথ। সময় এসেছে তাত্ত্বিক শিক্ষার বাইরে গিয়ে বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা—অর্থাৎ স্কিল-বেইজড এডুকেশন চালু করার।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

স্টার আইটি ২৪ এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন । প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয় ।

comment url